Menu

4022 Views3 Comments
Nastikya.com Imagine there is no heaven সতীর খোঁজে-হিন্দু শাস্ত্রে সতীদাহ-২য় পর্ব Posted by অজিত কেশকম্বলী II প্রথম পর্বের পর… অন্য জাতিতে সতীদাহ ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে ,হিন্দু ছাড়াও অনেক জাতির সতীদাহের অনুরূপ প্রথা ছিল। হেরোডোটাস বলেন, Scythian রা রাজার কবরে রাজার রাঁধুনি প্রভৃতি সেবক সহ একজন রক্ষিতাকে কবর দিত। এডওয়ার্ড থম্পসন বলেন, সতীপ্রথার সাথে এর মিল যৎসামান্যই। সতীদাহ এবং থ্রাসিয়ানদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মধ্যে মিল দেখা যায়। হেরোডোটাস উল্লেখ করছেন- “তাদের মধ্যে প্রত্যেক পুরুষের অনেক পত্নী আছে। একজন পুরুষের মৃত্যু হতে না হতেই কে সেই স্বামীকে সবচাইতে বেশি ভালোবাসে স্ত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা শুরু হত । প্রত্যেকের স্ত্রীর বন্ধুরা তাদের পক্ষে সমর্থন জানায়, এবং যে (স্বামীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার) সম্মান পায়, নারী-পুরুষদের কাছ থেকে সেই সম্মান পাওয়ার পরে তাকে তার স্বামীর কবরের উপর হত্যা করে , স্বামীর সাথে একসাথে কবর দেওয়া হয়।“ Grimm বলেন, স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের মধ্যেও সতীদাহের প্রথা ছিল। Balder এর উপকথায় Nanna তার চিতায় আরোহণ করেন। Volsunga র কাহিনীর Norse ভার্সানে Brunhild সতী হয়েছিলেন। স্লাভদের মধ্যেও এই রীতি ছিল এবং “স্বামীর লাশের সাথে বিধবাকে পুড়িয়ে মারা ইন্দো-জার্মানীয় রীতি ছিল। পরকালের জীবন ইহকালের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি- এই বিশ্বাস এর পিছনে কাজ করতো।“গ্রীক কিংবদন্তীতে Capaneus এর স্ত্রী Evadne কে তার স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। মিশরের রাজা Amen Hetep II এর চার স্ত্রীকে হত্যা করে তার সাথে রাখা হয়েছিল। Tongan, Fijian,Maori এবং অনেক আফ্রিকান গোষ্ঠীদের মধ্যে বিধবাকে বলি দেওয়ার রীতি ছিল। চিনে বিধবার পুনর্বিবাহকে অপবিত্র বলে মনে করা হত। অন্যদিকে, যে স্ত্রীরা স্বামীরা মৃত্যুতে আত্মহত্যা করতো তাদের সম্মানে প্রবেশপথ করা হত। [৩৮] সাহিত্যে সতীদাহ ধর্ম গ্রন্থ ছাড়াও অনেক সাহিত্যে সতীদাহের উদাহরণ দেখা যায়। বালি দ্বীপে প্রচলিত মহাভারতে উত্তরাকে তার স্বামী অভিমন্যুর সাথে সহমৃতা হতে দেখানো হয়েছে। [৩৯] বাৎস্যায়ন, ভাষ (vasa), কালিদাস, শূদ্রক সহমরণ সম্বন্ধে জানতেন। বাৎস্যায়ন বলেন,মৃত্যুর পরে প্রেমিকের চিতায় আত্মাহুতি দেবে বলে, চালাক নৃত্যরত মেয়েরা তাদের প্রেমিকের মনে জায়গা করে নেয়। ভাষ এর দূতঘটোৎকচ এবং ঊরুভঙ্গ তে মহাভারতের কাহিনী থেকে ভিন্ন কাহিনী লক্ষ্য করা যায়। এতে উত্তরা অভিমন্যুর চিতায়, দুঃশলা জয়দ্রথের চিতায় এবং পুরবী দুর্যোধনের চিতায় আত্মাহুতি দেন। [৩৯] কুমারসম্ভব কাব্যে রতি তার স্বামীর মৃত্যুতে নিজেকে পুড়িয়ে মারতে উদ্যত হয়েছিলেন। মৃচ্ছকটিকে চারুদত্তের স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের কথা শুনে নিজেকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। হর্ষচরিতে হর্ষের পিতা প্রভাকরবর্ধন যখন মারা যাচ্ছিলেন, হর্ষের মাতা যশোমতি আগুনে ঝাপ দিয়েছিলেন। হর্ষচরিতে আরেকজায়গায় রাতের বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে, চাঁদ-পদ্মের সৌন্দর্য কানে দুল, গলায় মালা পরিহিত অনুমরণের আকাঙ্ক্ষাকারী নারীর হাসির মতন। [ ৪০] ইতিহাসে সতীদাহ ৩১৬ খ্রি.পূ. এ হিন্দু জেনারেল keteus এর স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন। গ্রীক লেখকদের থেকে জানা যায়, তাকে তার ভাই চিতা অবধি পৌঁছে দিয়েছিল। কয়েকজন গ্রীক লেখকের মতে, পাঞ্জাবের kathian দের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিল। [৩৯] গ্রীক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস লিখেছেন খ্রি.পূ. ৩০০ সালে ইউমেনিসের সেনাবাহিনীর মধ্যে সতীদাহ ঘটেছিল। আরিস্টোকিউলাস তক্ষশিলার বিধবাদের সহমরণের কথা বলে গিয়েছেন। সিসিরো তার ‘টাসকিউলিয়াস ডিসপিউটস’ গ্রন্থে এবং খ্রি. পূ. ৬৬ অব্দে প্লুটার্ক ভারতীয় রমণীদের সহমরণের কাহিনীর উল্লেখ করেছেন। [৩৭] ৫১০ খ্রিষ্টাব্দে গোপরাজার স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন। ৬০৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা হর্ষের মাতা সহমৃতা হয়েছিল। এই সময়ে kajyavati নামে নেপালের এক রানীও সহমৃতা হয়েছিলেন। ৭০০-১১০০ সালের মধ্যে উত্তরভারতে সতীপ্রথা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। জয়মতির (jayamati) মতো (তথাকথিত) অসতী রানীও রাজা উচ্ছলের চিতায় সহমৃতা হন দেখে কাশ্মীরের ইতিহাসবিদ কহ্লন অবাক হয়ে যান । কাশ্মীরে শুধুমাত্র রাজার স্ত্রীরা সহমৃতা হননি রাজার রক্ষিতারাও প্রায়ই সহমৃতা হতেন। রাজা কলস (kalasa) এবং উৎকর্ষ (utkarsha) এর স্ত্রী ও রক্ষিতারা তার সাথে সহমৃতা হয়েছিলেন। নেপালি রানী রাজ্যবতী সহমৃতা হয়েছিলেন। সঙ্গমের যুগে Bhuta Pandeya এর রানী সহমৃতা হয়েছিলেন। যদিও তার ঐতিহাসিকতা সম্বন্ধে আলতেকর সংশয় প্রকাশ করেন। [৩৯] শিবাজির একজন স্ত্রী ও শিবাজির পুত্রের একজন স্ত্রী সহমৃতা হয়েছিলেন। রাজা শাহুর রাণীকে রাজনৈতিক কারণে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। [৩৮] ১৭২৪ সালে যখন মারোয়ারের রাজা অজিতেশ মারা যান, ৬৪ জন নারী তার চিতায় আরোহণ করেন। বুন্দির রাজা বুধসিং ডুবে মারা গেলে, ৮৪ জন মহিলা সতী হন। ১৬১১ এবং ১৬২০ সালে যখন মাদুরার নায়েক পরিবারের দুজন শাসক মারা যান তখন ক্রমান্বয়ে ৪০০ এবং ৭০০ জন মহিলা তাদের চিতায় আরোহণ করেন। মিশনারীরা এই সংখ্যাগুলো বাড়িয়ে বলে থাকতে পারেন, তারপরেও এটা পরিষ্কার যে নায়েক পরিবারের কোনো পুরুষের মৃত্যু হলে অনেক সংখ্যায় মহিলারা সতী হতেন। মহারাজা রণজিৎ সিং মারা গেলে তার চারজন রাণী ও সাতজন রক্ষিতা তার চিতায় আরোহণ করেন। মহারাজা খড়গ সিং এর সাথে তিনজন নারী,বসন্ত সিং এর সাথে পাঁচ জন নারী, কিশোরী সিং এর সাথে এগারো জন নারী ,হিরা সিং এর সাথে চব্বিশ জন নারী এবং সুচেত সিং এর সাথে ৩১০ জন নারী সহমৃতা হয়েছিলেন। [৩৯] ৯৭৯ শকাব্দে রাজেন্দ্রচোলের সময়কালে স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে ডেকাব্বা নামে একজন শূদ্র মহিলা নিজেকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন। অসংখ্য শিলালেখ থেকে সতীদাহের ঘটনার কথা জানা যায়। [৪০] সতীদাহ ঐচ্ছিক নাকি বলপূর্বক? সতীদাহ কি ঐচ্ছিক ছিল,নাকি বলপূর্বক হত? এই প্রশ্নের জবাবে আলতেকর বলেন, এর উত্তর সোজাসুজি দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলছেন, “ইবনে বতুতা আমাদের বলেন, নির্ভীক বিধবার সুখী মনে অগ্নিপ্রবেশ দেখে তিনি বিব্রত হয়ে পড়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী Bernier বলেন- নারীটির চেহারায় ফুটে ওঠা নিষ্ঠুর সাহস,হিংস্র উল্লাস বর্ণনার অতীত। তার পদক্ষেপ ভয়হীন।তার কথায় কোনো ব্যাকুলতা নেই, তার সহজ বায়ু সকল বিষাদ মুক্ত ,তার দৃঢ় সাহস সকল বিহ্বলতা মুক্ত।সে নিজের হাতে মশাল নিয়ে চিতায় আগুন ধরিয়েছিল। মুস্তাকি একটি ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। এক প্রেমিক তার বাগদত্তা প্রেমিকাকে সাপের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। প্রেমিকাটি স্বেচ্ছায় তার প্রেমিকের চিতায় সহমৃতা হয়েছিল।“ বলপ্রয়োগে সহমরণ সম্বন্ধে আলতেকর বলেন, “কাশ্মীরের দুজন রানী তাদের মন্ত্রীদের ঘুষ দিয়েছিল মৃত স্বামীর আপাত দৃশ্যমান সহগমণ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য, কহ্লন এ কথা লিপিবদ্ধ করেন। এই পদ্ধতিতে রানী Didda মন্ত্রীদের দ্বারা রক্ষা পেয়েছিলেন সহমরণ থেকে। গর্গ নামের নিষ্ঠুর এক মন্ত্রী ঘুষ নিলেও শ্মশানে পৌঁছাতে দেরী করে। এর ফলে রানী তথাকথিত ঐচ্ছিক সহমরণের মাধ্যমে মারা যান। মধ্যযুগের অনেক ভ্রমণকারীরা বলপূর্বক সতীদাহের কথা লিপিবদ্ধ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিবরণ সত্য হয়ে থাকবে। Manucci আমাদের বলেন ক্ষত্রিয় নারীদের তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পোড়ানো হত, তিনি এরকম একজন নারীকে উদ্ধার করেছিলেন এবং তার এক ইউরোপীয় বন্ধুর সাথে তার বিবাহ দিয়েছিলেন। Nicoli Conti আমাদের জানান ,বিধবাদের উপর প্রায়শই আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হত, তাদের বলা হত, বেঁচে থাকলে তারা তাদের স্ত্রীধন হারাবে। লাহোরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক শিশু বিধবাকে পুড়িয়ে মারার দুঃখজনক ঘটনা Bernier বর্ণনা করেছেন। আকবরের কর্মচারী জয়মলের স্ত্রীকে তার ছেলে বলপূর্বক পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল।আকবরের হস্তক্ষেপে তাঁকে রক্ষা করা হয়েছিল। অনেক সময় অভাগা নারীদের সহমৃতা হতে বাধ্য করা হলে, তারা পালিয়ে যেত। তখন তাদের অচ্ছুত হিসাবে গণ্য করা হত। পরিবার ও জাতি তাদের আর গ্রহণ করতো না। কখনো নিম্নবর্ণের পুরুষদের দয়ায় তারা বেঁচে থাকতো। কখনোবা ইউরোপিয়ান বনিকেরা তাদের উদ্ধার করে বিয়ে করতো।“ [৩৯] ম্যাসি নামক এক ইংরেজ সতীদাহের এক ঘটনা বর্ণনা করেন। ১৮৩৯ সালে এক ব্রাহ্মণী প্রথমে মৃত স্বামীর চিতায় আরোহণ করেন, কিন্তু যখন চিতার অগুন জ্বলে ওঠে তখন নেমে আসেন। পরে সেই বিধবাকে জোর করে চিতায় নিক্ষেপ করা হয়। আগুন ভয়ানক ভাবে জ্বলতে থাকায় কেউই বাঁশ দিয়ে তাকে চেপে ধরতে পারেনা। তখন বড় বড় কাঠের টুকরো নিক্ষেপ করে ওই নারীকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু এইবারও সে চিতা থেকে নদীতে ঝাপ দেয়। তার আত্মীয়েরা তখন তাকে জলে ডুবিয়ে মারার চেষ্টা করে । একজন ইংরেজ তাকে তার আত্মীয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। কিন্তু বিধবাটি এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল যে তার মৃত্যু হয়। [৩৭] রামমোহনের জীবনীকার অনিলচন্দ্র ঘোষ রামমোহনের সময়কালে বাংলায় সতীদাহের চিত্র বর্ণনা করেন- “পতির সহিত সহমৃতা হওয়া এদেশে অতি প্রাচীনকাল হইতেই নাকি প্রচলিত ছিল । ধর্ম ও পুণ্যের নামে লোকে কতদূর নির্মম ও নিষ্ঠুর কাজ করিতে পারে তাহার একটি নিদর্শন সতীদাহ। রামমোহনের সমকালে ইহাতে নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা চরমে পৌঁছিয়াছিল। ভাগীরথির দুই তীর আলোকিত করিয়া জ্বলন্ত চিতানলে নারীগণ ভস্মীভূত হইত, তাহাদের করুণ আর্তনাদে বাংলার আকাশ বাতাস কাঁদিয়া উঠিত, বাঙ্গালীর প্রাণে তাহা সাড়া জাগাইত না। সে বীভৎস দৃশ্যের কথা ভাবিতে পারি না। চিতা সজ্জিত হইয়াছে। মৃত স্বামীর সহিত হতভাগা বিধবাকে বাঁধিয়া দেওয়া হইয়াছে। ইহার পূর্বক্ষণেই হয়ত হতভাগিনীকে ভাঙ, চরস, ধুতুরা খাওয়াইয়া অর্ধোন্মত্ত করা হইয়াছে। এইরূপ জ্ঞানশূণ্য অবস্থায় উহাকে চিতায় বাঁধিয়া দিয়াছে। দাউ দাউ করিয়া আগুন জ্বলিয়া উঠিল। চারিদিকে ঢাকঢোল, কাঁসর , ঘন্টা তুমুল হট্টগোল সৃষ্টি করিল। যমদূতের মত জোয়ান দুই ব্যক্তি প্রকাণ্ড কাঁচা বাঁশ চিতার উপর চাপিয়া ধরিয়াছে- সতী যাহাতে ছুটিয়া পালাইতে না পারে। হঠাৎ তুমুল কোলাহল দেখা গেল, সতী চিতায় নাই। চিতার অসহ্য অগ্নি উত্তাপ সহিতে না পারিয়া হতভাগিনী অর্ধদগ্ধ শরীরে জঙ্গলে পলায়ন করিয়াছে বা গঙ্গায় ঝাপ দিয়াছে। অমনি চারদিকে লোক ছুটিল। হায় হায়! হিন্দু ধর্ম রসাতলে গেল, কুলে কলঙ্ক পড়িল, শাস্ত্র অশুচি হইল! গভীর জঙ্গল হইতে সেই ভীত ও মৃতকল্প রমণীকে আবার জোর করিয়া চিতায় তুলিয়া দিল। ঢাক-ঢোল জোরে বাজিয়া উঠিল। হতভাগিনীর শত অনুরোধ উপরোধ ব্যর্থ হইল- চোখের জলে বুক ভাসিয়া গেল- কাহারও পাষাণ হৃদয় টলিল না। তুমুল হরিধ্বনিতে নারীর আর্তনাদ ডুবিয়া গেল- সহস্রশীর্ষ হুতাশন লেলিহান জিহ্বা মেলিয়া সব শেষ করিয়া দিল। যে বা গঙ্গায় ঝাপ দিয়াছিল , লগুর ও বৈঠার আঘাতে তাহার গঙ্গা প্রাপ্তি ঘটিল। হিন্দু ধর্ম রক্ষা পাইল –হিন্দু সমাজ অটুট রহিল। হায় রে ধর্ম! হায়রে সমাজ!”[ ৪১] রামমোহনের আগেও রামমোহনের সময়কালের আগেও অনেকে সতীদাহের বিরোধিতা করেছিলেন। মেধাতিথি সহমরণের বিরোধীতা করেছিলেন। বিরাট সহমরণের নিষেধ করেন। দ্বাদশ শতাব্দীর একজন লেখক Devanabhatta বলেন, সতী প্রথা খুবই নিম্ন প্রকারের ধর্ম এবং তিনি এর অনুমোদন করেননি। কবি বাণ (৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) বলেন,” প্রিয়জনের মৃত্যুতে মরে যাওয়া হল সবচাইতে অকার্যকর কর্ম। এটা বিভ্রমের মধ্যে করা একপ্রকারের ভুল। এটি ত্বরার মধ্যে করা বেপরোয়া কর্ম। এটা একটা মারাত্মক ভুল। এতে মৃত ব্যক্তির কোনো ভালোই হয় না। এটা মৃত স্বামীকে স্বর্গে পৌঁছাতে, নরক হতে পরিত্রাণ লাভ করতে সাহায্য করে না। মৃত্যুর পর দুজনের মিলনের নিশ্চয়তা এই কাজ দেয় না। মৃত ব্যক্তি তার কৃত কর্মের ফল অনুসারে নির্ধারিত লোকে যায়। যে মৃত ব্যক্তির চিতায় আত্মাহুতি দিয়ে সহমৃতা হয় সে আত্মহত্যার পাপে পাপী হয়ে নরকে যায়।…” তন্ত্রের রচয়িতারাও সতীদাহের বিরোধীতা করেছিলেন। তারা বললেন, নারী হলেন সর্বোচ্চ দেবীর রূপ। তারা দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করলেন, মৃত ব্যক্তির সাথে যে সহমৃতা হয়, সে নরকে যায়। মুসলমান শাসকেরা সতীদাহ প্রথাকে পছন্দ করেন নি। হুমায়ুন সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়স পার করা বিধবা মহিলাদের ক্ষেত্রে সতীদাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে চেয়েছিলেন। যাইহোক, তিনি এ বিষয়ে তেমন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেন নি। আকবর সহমরণের ক্ষেত্রে যাতে জোর না করা হয় এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ফলস্বরূপ আগ্রার সন্নিহিত অঞ্চলে সতীদাহ বিরল হয়ে পড়েছিল। [ ৩৯] সতীদাহ রদ সতীদাহের মত কুপ্রথার দিকে ইংরেজদের দৃষ্টি আকর্ষিত হলেও তারা দেশীয় লোকের ধর্মীয়...See more